Pages

মমর ‘আলতা বানু’


আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে অরুণ চৌধুরী পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র আলতা বানু। ছবিটির ‘আলতা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম। ছবি মুক্তির আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে আনন্দের মুখোমুখি হলেন এই অভিনেত্রী। সঙ্গে ছিলেন হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক

‘তালিকাটা কিন্তু একেবারে খারাপ নয়।’২০০৭ সালে দারুচিনি দ্বীপ, ২০১৪-তে প্রেম করব তোমার সাথে, ২০১৫-তে ছুঁয়ে দিলে মন আর ২০১৮-তে আলতা বানু—এই চারটি ছবিকে এক সুতায় মেলানোর জন্য একটা তথ্য দিই। চারটি ছবির নায়িকা জাকিয়া বারী মম। আর লেখার শুরুতে আপনি যে বাক্যটি পড়লেন, সেটাও এই অভিনেত্রীর বলা।

মুক্তি পাওয়া তিনটি তিন ধরনের ছবি। কিন্তু যেটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে, সেটি কেমন? এটা জানতেই গত মঙ্গলবার দুপুরে উত্তরার এক শুটিং বাড়িতে মমর মুখোমুখি বসা হয়েছিল। শুরুতেই মম বললেন, ‘চিত্রনাট্যটি হাতে পেয়ে দুই রাত ধরে পড়েছি। পড়তে পড়তে একটা অন্য রকম অনুভূতি হয়েছে। আমি যেন আলতার সঙ্গে হাঁটছি, ঘুরছি। সহজ করে বললে বলা যায়, আলতার ভ্রমণটা আমি দেখতে পাচ্ছি। যে চরিত্রটা আমি নিজের চোখে দেখতে পাই, সেটাকে না করি কীভাবে?’
মম না করতে পারেননি বলেই আগামীকাল ‘আলতা’ হয়ে বড় পর্দায় আসছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ছবিজুড়ে একটা ‘জার্নি’ আছে, যা দর্শককে মুগ্ধ করবে।

ছবির মূল গল্প চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের। চিত্রনাট্য বৃন্দাবন দাসের। আর পরিচালনা করেছেন অরুণ চৌধুরী। এটি এই পরিচালকের প্রথম চলচ্চিত্র। তবে প্রথম হলে কী হবে, চার নম্বর চলচ্চিত্র মুক্তির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা নায়িকা মম বললেন, ‘অরুণদা খুব গুছিয়ে কাজ করেন। আমরা মাত্র ২১ দিনে সিনেমার শুটিং শেষ করেছি। শুটিংয়ের আগে কারও এমন পূর্বপ্রস্তুতি আগে দেখিনি।’

কোন তিনটি কারণে আলতা বানু সবার দেখা উচিত?

প্রশ্নটা শুনে একটু ভাবেন মম। মুঠোফোনে কেউ একজন কল দেয়। সেটা সাইলেন্ট মোডে রেখে বলেন, ‘এক. ভালো গল্প। দুই. ভালো অভিনয় এবং তিন. ভালো মিউজিক।’

আর আলতা চরিত্রটা? এবার রহস্যময় হাসি হাসেন। প্রশ্নের উত্তরটা তুলে রাখেন প্রেক্ষাগৃহে আগত দর্শকদের জন্য।

২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার হয়েছেন জাকিয়া বারী মম। তারপর থেকে অভিনয়ে নিয়মিত। হিসাব করলে এক যুগ পার করলেন অভিনয়ে। নাটক তো নিয়মিত করছেনই। চলচ্চিত্রের তালিকা আগেই দেওয়া হয়েছে। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তানিম রহমান পরিচালিত স্বপ্ন বাড়ি নামের একটি চলচ্চিত্র। আর এ বছরই শুটিং শুরু হবে শিহাব শাহীনের মন ফড়িংচলচ্চিত্রের। মাঝে একবার শোনা গিয়েছিল বলিউডের একটি ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি? বিষয়টা তুলতেই বললেন, ‘ওটা লোকেশন জটিলতায় পড়েছে। তবে আমার সঙ্গে ওই পরিচালকের নিয়মিত কথা হচ্ছে। লোকেশন চূড়ান্ত হলেই কাজ শুরু হবে। ঈদের পরপরই হওয়ার কথা।’
নাটকে নিয়মিত এই অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাই কী ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য? একবাক্যে বলেন রোমান্টিক কোনো নাটক বা চলচ্চিত্র। আর রোমান্টিক নির্মাণে গুরু মানেন পরিচালক শিহাব শাহীনকে। নাটকে তো ঠিকঠাক কিন্তু বাস্তবে কতটা রোমান্টিক মম? ভাবেন, হাসেন।
‘বাস্তবে কতটা, এটা বলা সত্যি খুব কঠিন। হয়তো ১০-এ ৫ পাব। কিন্তু নাটকে তো ঠিকঠাক অভিনয় করার চেষ্টা করি। পরিচালক তো খুশিই হন। এটাই-বা কম কী!’
তবে রোমান্টিক চরিত্র পছন্দ হলেও মম ভালোবাসেন সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে। যেমনটা ছিল দারুচিনি দ্বীপ। ‘সাহিত্যের চরিত্র তুলে নিয়ে আসা কঠিন। আর আমি সারা জীবন কঠিন কাজটাই করতে চেয়েছি। করছিও।’
কিন্তু এই মুহূর্তে মমর ধ্যানজ্ঞান আলতা বানু ঘিরে। তিনি চান ছবিটা মানুষ দেখুক। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত চলচ্চিত্রটি মানুষের মন কাড়বে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।
0

আফগানদের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টিই পছন্দ বাংলাদেশের

আফগানিস্তান সিরিজ নিয়ে একটু একটু করে কেটে যাচ্ছে সংশয়। কদিন আগে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান জানান, ভারতের উত্তরাখন্ডের ভেন্যু দেরাদুনের চেয়ে বাংলাদেশ সিরিজটা কলকাতা ও বেঙ্গালুরুতে খেলতে বেশি আগ্রহী। পরে জানা গেল, আফগানিস্তান প্রস্তাব দিয়েছে সিরিজটা ওয়ানডে সংস্করণে খেলতে। তবে বাংলাদেশ দ্বিধায়, ওয়ানডে খেলবে, নাকি টি-টোয়েন্টি! 
আজ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে নাজমুল হাসান জানালেন, দেরাদুনে খেলতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে ওয়ানডে নয়, সিরিজটা বাংলাদেশ খেলতে চায় টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। বিসিবি সভাপতি বললেন, ‘সংস্করণ ঠিক হয়ে গেছে। আমরা ওদের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিই খেলব। এখন কথা হচ্ছে, তিনটি খেলব নাকি চারটি । আমরা তিনটির কথা বলেছিলাম। ওরা চারটার জন্য অনুরোধ করেছে। এটা আমাদের পরিচালনা বিভাগ ঠিক করবে।’ 
ফেব্রুয়ারিতে দেশের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেই মার্চে কলম্বোয় বাংলাদেশ নিদাহাস ট্রফি খেলেছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। শ্রীলঙ্কায় দারুণ পারফরম্যান্সই হয়তো বিসিবিকে আফগানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলতে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু ভ্রমণ জটিলতার কারণ দেখিয়ে দেরাদুনে খেলতে যে অনাগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখান থেকে বিসিবি সরে এল কেন? 
বিসিবি সভাপতির ব্যাখ্যা, ‘ভেন্যু এখনো পর্যন্ত দেরাদুনই আছে। মুম্বাই-বেঙ্গালুরুতে খেলা নিয়ে চিন্তা করছি না। কিন্তু সব ভেন্যুতেই এখন খেলা হচ্ছে। এই মুহূর্তে তাদের কাছে ভেন্যু নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। ১৫ দিন আগেও যদি ভেন্যু জানা না যায়, সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে হবে। আপাতত আমরা ধরে নিচ্ছি দেরাদুনেই খেলা হবে।’
0

নিশো অনেক মেয়ের ‘ক্রাশ’!

0

‘সরকারি দলের কোটা’ বাতিল করুন

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের বেকারত্বের হার বেশ কম, শিল্পোন্নত দেশগুলো থেকেও কম। সরকারের সর্বশেষ ‘শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭’ অনুযায়ী দেশে বেকারত্বের গড় হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। প্রকৃতপক্ষে এর হার অনেক বেশি হবে। কাজ পেতে আগ্রহী কেউ সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করলেই যদি কর্মরত বলে ধরে নেওয়া হয় তাহলে বলতে হবে বাংলাদেশ এখন পূর্ণ কর্মসংস্থান স্তরে আছে! কারণ বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে কর্মসন্ধানী সবাই কিছু না কিছু উপার্জনমুখী বা উপার্জন বিকল্প কাজ করে। সাধারণত কাজের বয়স ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়স ধরা হলেও বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের কাজ শুরু হয় ৫-৭ বছর বয়স থেকেই, আর তা অব্যাহত থাকে (বেঁচে থাকলে) ৬৫ বছরের পরও। এ দেশে যাঁরা নিজেদের শৈশবকে শৈশব হিসেবে পার করতে পেরেছেন তাঁরা বিশেষ সুবিধাভোগী।
বেকারত্বের সংকীর্ণ সংজ্ঞা দিয়ে কর্মসংস্থান মাপা তাই খুবই বিভ্রান্তিকর। কর্মঘণ্টা, ধরন, আয়, নিশ্চয়তা এগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে। প্রবাসে এখন প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি কাজ করেন। তারপরও দেশে কাজের পরিমাণগত ও গুণগত অবস্থা ভালো নয়। কৃষি খাতের অনুপাত কমেছে, কর্মসংস্থানেও। কিন্তু শিল্পকারখানা খাতের অনুপাতের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে পরিষেবা খাত। সেখানে স্থায়ী ও নিরাপদ কাজের সুযোগ খুবই কম। তাই অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজ, স্বকর্মসংস্থানেই বেশির ভাগ মানুষের নির্ভরতা। উপরিউক্ত শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক। এসব ক্ষেত্রে কাজের কোনো স্থিরতা নেই, আয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম, নিরাপত্তাও কম। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা নিয়েও অনেককে এ ধরনের কাজই খুঁজতে হচ্ছে। দোকান, মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র, মোবাইল ব্যাংকিং, টিউশনি, কোচিং সেন্টার, অনলাইন বিভিন্ন সার্ভিস, কুরিয়ার, পরিবহন, বিক্রয় প্রতিনিধিসহ এজেন্ট হিসেবে কাজ—এগুলোই এখন শিক্ষিত তরুণদের কাজের এলাকা। ব্যাংক, এনজিও, পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বিশেষ আগ্রহের জায়গা। সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে এখন বিসিএস ক্যাডার সার্ভিস।
সচিব, যুগ্ম সচিবসহ উচ্চ পদগুলোতে সংখ্যার তুলনায় নিয়োগ বেশি হলেও প্রয়োজনীয় নিয়োগে সরকারের অনীহা প্রবল। সর্বজন (পাবলিক) স্কুল-কলেজে বহু হাজার পদ এখনো খালি। সরকারের বাজেট ক্রমেই বেড়ে যায়, অভূতপূর্ব উচ্চ ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প নেয় সরকার, কিন্তু প্রয়োজনীয় নিয়োগের ক্ষেত্রে বলে টাকার অভাব। সরকার একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে, কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ করতে গেলে বলে অর্থ নেই। বছরের পর বছর কলেজগুলোতে পদ শূন্য, শিক্ষক নেই; বহু প্রতিষ্ঠানে ক্লাস না করেই পরীক্ষা দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের অভাবে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। অন্যদিকে প্রায় ক্ষেত্রেই মেধা বা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ পাওয়ার সম্পর্ক নেই। প্রায় নিয়োগের সময়ই মেধা বা যোগ্যতার চেয়ে কার কী যোগাযোগ, কে কত টাকা দিতে পারবে, সে প্রশ্ন ওঠে। চাকরি এখন কিনতে হয়। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের এসব জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখতে হয় নিয়মিত। এ দেশে যোগ্যতা অর্জন করা কঠিন, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়া আরও কঠিন।
বিসিএস ক্যাডারের বিষয়ে স্নাতক-উত্তীর্ণ তরুণদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক কলেজ শিক্ষার্থীদের এখন প্রধান ব্যস্ততা। স্নাতক উত্তীর্ণ হওয়ার অনেক আগে থেকে এই বিষয়ে পড়াশোনাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ, স্থায়ী নিরাপদ কর্মসংস্থানের আর কোনো ক্ষেত্র নেই। কিন্তু এত ভরসা যার ওপর সেখানে কোটার প্রতিবন্ধকতা দিনে দিনে ক্ষোভ বৃদ্ধি করছে শিক্ষার্থীদের।
খুবই স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই কোটা নিয়ে আলোচনা। কারণ, শতকরা ৫৬ ভাগের মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগই মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য (এখন নাতি-নাতনি যোগ হয়েছে)। এ বিষয়ে তাই খোলামেলা আলোচনা হয়নি, কিন্তু ক্ষোভ ক্রমেই ছড়িয়েছে। এবারই তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বেশি। স্পর্শকাতর হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মানের কথা বিবেচনা করেই এ বিষয়ে কথা বলা উচিত। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো থেকেই আলোচনা হওয়া দরকার বেশি। বাবা-মা উভয়েই মুক্তিযোদ্ধা, এ রকম একজন সন্তান তানিম আহমেদ ২০১৩ সালেই এতটা কোটা সংরক্ষণের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন। বলেছেন, কোটার সুবিধা দেওয়া হয় অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য। মুক্তিযোদ্ধারা অনগ্রসর নয়। 
লায়লা হাসিন আমার ছাত্রী, এখন বিভাগে সহকর্মী। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তিনি, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘কখনো বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে কোনো সুবিধা নিতে চাইনি। বাবা আমাকে যোগ্য করে তুলেছেন, নিজের যোগ্যতার বলেই এ পর্যন্ত এসেছি। আমার সন্তানদের আমি কোনো করুণার বস্তুতে পরিণত করতে চাই না। ওরা নিজেদের যোগ্যতাবলেই নিজেরা যত দূর যেতে পারে যাবে।’ একজন মুক্তিযোদ্ধার, একজন শহীদের, নির্যাতিত মানুষদের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে যে অবদান তাতে তাঁদের কাছে বাংলাদেশের মানুষের ঋণ পরিশোধযোগ্য নয়। কিন্তু এত বছরেও মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ, যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা সম্পূর্ণ হয়নি। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে তালিকার পরিবর্তন ঘটে, একই সরকারের অধীনেও বদলাতে থাকে। এখনো মাঝেমধ্যে পত্রিকায় খবর আসে রাজাকারের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়, ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে উচ্চ পদে আসীন। ক্ষমতাবানদের স্পর্শ থাকলে যে রাজাকারও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যায়, তার প্রমাণ আমরা বহু পেয়েছি। অন্যদিকে গ্রামে গ্রামে, শহরে বন্দরে এমন অনেক পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বোচ্চ ত্যাগ করে, সর্বোচ্চ লড়াই করেও পরে নিগৃহীত, বঞ্চিত হয়েছেন। শহরের সুবিধাভোগী পরিবারের কেউ কেউ এই পরিচয় নিয়ে নানাভাবে নিজের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারলেও শ্রমিক, খেতমজুরসহ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকার যদি সমস্যাজর্জরিত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে–বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যোগ্য করে তুলতে ভূমিকা পালন করত, তাহলে তা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই ও সম্মানজনক হতো।
কোটা পরিচয় নিয়ে বর্তমানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানেরা তাই বড় যন্ত্রণার মধ্যে আছেন। করুণা নয়, সম্মান তাঁদের প্রাপ্য। সরকার যে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অনুপাত শতকরা ৩০ ভাগ করেছে, সন্তানের পর এখন নাতি-নাতনি পর্যন্ত কোটা সম্প্রসারিত করেছে, এটা কি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভালোবাসার জন্য, তাদের প্রতি দায়বোধের জন্য? বাস্তব পরিস্থিতি তা বলে না। বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলা যায় যে সরকার এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষমতাবানদের বেশি বেশি কোটা রাখার আগ্রহ এই কারণে যে এর মাধ্যমে তারা নিজেরা নিজেদের পছন্দমতো লোকজনকে চাকরি দিতে পারে, সুবিধামতো নিয়োগ-বাণিজ্য করতে পারে। সে জন্য ভুয়া সার্টিফিকেটের জোয়ারে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আর তাঁদের সন্তানেরাও ভেসে যাচ্ছে। অলিখিত প্রবল একটি কোটা এখন অন্য সব কোটা পরিচালনা করছে, সেটা হলো ‘সরকারি দলের কোটা’।
কাজের খোঁজে তরুণদের সংখ্যা বাড়ছে, তাঁরা বাড়তি বা বিশেষ কোনো সুবিধা দাবি করছেন না। কাজ না করে চাঁদাবাজি বা অপরাধ করে জীবিকা অর্জনের পথেও তাঁরা যেতে চান না। তাঁরা মেধা ও যোগ্যতায় নিজেদের তৈরি করতে পারবেন, তার ভিত্তিতে কাজ পাওয়ার অধিকার রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে, এটা তাঁদের খুবই ন্যায়সংগত দাবি।
কোটা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এখনো পরিষ্কার হয়নি, গেজেট হলে হবে। কোটা বাতিল নয়, সংস্কারই তরুণদের দাবি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলিখিত ‘সরকারি দলের কোটা’ বাতিল করা বা দুর্নীতি আর নিয়োগ-বাণিজ্যের উৎস দূর করা।
0

রাইড শেয়ারিংয়ে ভোগান্তি হলে কী করবেন

রাইড শেয়ারিং অ্যাপের ব্যবহার বেড়েছে। পাশাপাশি এ সেবা নিতে গিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতার সংখ্যাও কম নয়।
মাহিনূর ইসলাম এ রকমই একটি সেবা নিতে গিয়ে চালকের কাছ থেকে দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট রাইড শেয়ারিং কর্তৃপক্ষকে। তারা বিষয়টি দেখবেন বলে মাহিনূরকে জানিয়েছেন।

প্রতিটি অ্যাপেই চালক ও সেবার বিষয়টি নিয়ে রেটিংয়ের ব্যবস্থা আছে। খারাপ অভিজ্ঞতা হলে উবারের ‘ইউর ট্রিপস’ অপশনে গেলে ‘হেল্প’ নামে আরেকটি অপশন আসবে। সেখানে বিভিন্ন অভিযোগের ধরন আছে। যাত্রী নিজের সমস্যা অনুযায়ী অভিযোগ জানাতে পারবেন।

পাঠাওয়ের ‘হিস্ট্রি’ অপশনে গিয়ে চালক সম্পর্কে ও ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানানোর সুযোগ আছে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী অভিযোগ জানানো যাবে। পাঠাওয়ের কল সেন্টারও আছে। এ ছাড়া ০৯৬৭৮১০০৮০০ নম্বরে ফোন করেও অভিযোগ জানানো যায়। শেয়ার আ মোটরসাইকেলের (স্যাম) অ্যাপসে ‘হেল্প’ অপশনে ক্লিক করলেই সরাসরি তাদের কল সেন্টারে ফোন চলে যাবে। এ ছাড়া আমার বাইক, আমার রাইড, ইজিয়ার, লেটস গো, মুভ, ডাকোসহ অনেকগুলো এখন এই সেবা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি অ্যাপেই অভিযোগ জানানোর সুযোগ আছে এবং নিয়মটাও প্রায় একই।

২০১৫ সাল থেকে দেশে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে নগরে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলের সুযোগ চালু হয়।

গেল বছর অনেকগুলো রাইড শেয়ারিং অ্যাপ চালুর ঘোষণা আসে। সরকার এ বছরের জানুয়ারিতে রাইড শেয়ারিং নীতিমালা-২০১৭-এর খসড়া অনুমোদন দেয়। এখানেও বলা আছে, শৃঙ্খলাপরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড দেখলে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগ জানানো হলে কর্তৃপক্ষ কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, তা জানা যায় না।

আবু তাওহিদ নামের এক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘একবার অভিযোগ করি। তারা জানিয়েছে ব্যবস্থা নেবে। আসলে আমরা তো জানতে পারছি না আদৌ তারা ব্যবস্থা নেয় কি না। কারণ, এরপরে তারা আমাদের কিছু জানায় না।’

পাঠাওয়ের অপারেশনস ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল ওয়াসিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অ্যাপে অভিযোগ জানানো ছাড়াও আমাদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার আছে। সেখানে ফোন দিয়ে অভিযোগ জানানো যায়।’ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুপক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে জানা হয়। গুরুত্ব বিবেচনা করে সাময়িক বা স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়। আবদুল্লাহ বলেন, মানসম্পন্ন সেবার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না জানানোর কারণ সম্পর্কে আবদুল্লাহ বলেন, অভিযোগকারীকে জানালে তিনি যদি তা স্বাভাবিক না নেন, তবে নতুন ঝামেলা তৈরি হতে পারে। কেউ যদি চালকের ছবি দিয়ে ঘটনা প্রকাশ করে দেন, তবে এটা ওই চালকের জন্য অবমাননাকর হবে। 
0

copyright © . all rights reserved. designed by Color and Code

grid layout coding by helpblogger.com